Press Release

শিশুদের স্মার্ট ফোন ব্যবহার আমাদেরকে মেধা শূন্য জাতিতে পরিণত করবে
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে শিশুদের স্মার্ট ফোন ব্যবহারে ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম ‘মা সম্মেলন’ ১৩ জুলাই শনিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি অহিদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন) সিআইপি’র সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনির্ভাসিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম। যুগ্ম সম্পাদক আবছার উদ্দিন অলি ও মোঃ ইমতিয়াজ আহমদ’র সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রাম’র সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া, শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, চবি ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ—সভাপতি লায়ন আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান, আজিমুল ইসলাম চৌধুরী রিপন। বক্তারা বলেন শিশুরা যেভাবে স্মার্ট ফোন ব্যবহারে ঝঁুকে পড়ছে সেটি আগামীতে আমাদের নতুন প্রজন্মকে মেধা শূন্য জাতি হিসেবে তৈরি করবে। ক্ষতি হবে মেধা শক্তি, নষ্ট হবে চোখ, শ্রবন শক্তি হারাবে প্রজন্মের শিশুরা এটি আমাদের জন্য অশনি সংকেত। তাই অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে সবার আগে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ সেলিম, আজিজুর রহমান, লায়ন শেখ সামিদুল হক, আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, মো: মোরশেদদ আলম, জাকিয়া জিহান নিপু, আসিবুর রহমান, সালমা বেগম, এড. বিবি আয়েশা, প্রমা তাহের, সাবরিনা সাবা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম মহানগর’র সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের রনি, ওসমান সরোয়ার, ওব্যাট হেল্পার্স’র সোহেল আকতার খান প্রমুখ।

তুরস্ক হিউম্যান রাইটস এন্ড ইকুয়ালিটি ইন্সটিটিউশন এর ডেপুটি হেড এর সাথে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিবের মতবিনিময়:
মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তুরস্কের হিউম্যান রাইটস এন্ড ইকুয়ালিটি ইন্সটিটিউশন এর ডেপুটি হেড ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের কোঅরডিনেটর ইজগি কাশকাভাল ওকেয়া’র সাথে সাক্ষাৎ করেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী। আজ ২৫ জুন তুরস্কের আঙ্কারায় ইন্সটিটিউশন ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডেপুটি হেড ইজগি কাশকাভাল ওকেয়া বলেন, বাংলাদেশ তুরস্কের একটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে সে দেশের জনগণের জন্য আমাদের ভালোবাসা রয়েছে। দেশের সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে রাষ্ট্র কোনভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারে না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যা খুবই নগণ্য। সার্বিক বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি মোড়ল দেশের তুলনায় সমুন্নত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক আবেদ আলী ইজগি কাশকাভাল ওকেয়া’কে সংগঠনের স্মরণিকা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক সেমিনারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের চিত্র প্রত্যক্ষ করে তিনি সংগঠনের ভুয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন আগামীতে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিষয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সংবাদ সম্মেলন:
অদ্য ২০ ডিসেম্বর, ২০২২ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের অভ্যন্তরীণ ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব ও ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন- সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে আমরা কূটনীতিকদের গতিবিধি ও মন্তব্যসমূহ লক্ষ্য করছি যে তারা একটি বিশেষ মহলকে সহায়তার উদ্দেশ্যে কূটনৈতিক আচরণের পরিপন্থি কার্যক্রমে জড়িয়ে পরেছেন। ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ গুলশানে বিএনপি নেতা ড. মঈন খান এর বাসায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার, স্পেনের রাষ্ট্রদূত, সুইডেনের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত, জাপানের মিনিস্টার কাউন্সিলর একটি সভায় যোগ দেন। ৬ ডিসেম্বর ১৫টি দেশের কূটনীতিকদের যৌথ বিবৃতি, পল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিবৃতি সহ বিভিন্ন বিষয় আমাদের কাছে উদ্বেগ জনক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, জাতিসংঘ ভিয়েনা কনভেনশন এর আলোকে একজন কূটনীতিকের দায়িত্ব, কর্তব্য, আচারণ এর সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে কূটনীতিকগণ তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দায়িত্ব পালন করছেন। যে সকল কূটনীতিকগণ বাংলাদেশের মানবাধিকার, নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আচরণ বিধি বহির্ভূত মন্তব্য-বিবৃতি প্রদান করেন তাদের দেশে কি কূটনৈতিকরা এভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারে? উন্নয়নের অংশীদার ও বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে যেকোন সু-পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণযোগ্য কিন্তু অনধিকারচর্চা অবশ্যই নিন্দনীয়।
গত ১৪ই ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে মায়ের কান্না নামক একটি সংগঠনের কর্মীগণ তাদের মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি অবহিত করার জন্য স্মারক লিপি প্রদানের চেষ্টা করেন। কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের কথা শুনতে অপারগতা প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ‘মায়ের ডাক’ এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যদি শাহীনবাগে একটি বিশেষ বাসায় যেতে পারেন তাহলে ‘মায়ের কান্না’ এর ডাকে সাড়া দিতে বাধা কোথায়? মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই দ্বৈত আচরণ দেশের সাধারণ জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে এ দেশকে বুদ্ধিজীবী শুন্য করতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি গুম ও খুনের খেলায় মেতে উঠেছিল। সেই অশুভ শক্তিকে অস্ত্র-অর্থ দিয়ে শুধু সহযোগিতাই নয়, জাতিসংঘকে দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে নস্যাৎ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা পত্রের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির রাষ্ট্রদূত যখন বাংলাদেশকে মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেন, তখন সেটাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মনে হয়। কূটনীতিকদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকার এবং নির্বাচন বিষয়ে অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্যে আমরা মানবাধিকার কর্মীরা ও নাগরিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থ-সিদ্ধির ভূমিকায় অবতীর্ণ না হওয়ার জন্য কূটনৈতিকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের বিশ^াস সম্মানীত কূটনীতিকগণ আন্তরিকভাবে তাদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশের সাথে তাদের দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ ও সৌহার্দ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, সাবেক ধর্ম ও পানি সম্পদ মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান, ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আহম্মদ আবুল কালাম।